শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন

শীত মৌসুমে হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়ে, ওয়ার্ডের মেঝেতে চলছে চিকিৎসা চমেক হাসপাতালে

মাসুদ পারভেজ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

শীত মৌসুমে হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়ে,ওয়ার্ডের মেঝেতে চলছে চিকিৎসা চমেক হাসপাতালে

ওয়ার্ডের মেঝেতে চলছে হৃদরোগীর চিকিৎসা
চমেক হাসপাতাল হৃদরোগ বিভাগ ।। নেই কোনো ইনডোর মেডিকেল অফিসার অধ্যাপকের পদ না থাকায় চিকিৎসকদের হতাশা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে বেড়েছে রোগী। শীত মৌসুমে হৃদরোগীর সংখ্যা অন্য সময়ের চেয়ে বেড়ে যায়। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত মৌসুমে অনেক বয়স্ক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হৃদরোগের নির্দিষ্ট কোনো সময় থাকে না।

তবে দেখা যায়, শীতে হৃদরোগী বাড়ে। শীতের সাথে হৃদরোগ বাড়ার বিজ্ঞানসম্মত কোনো কারণ না থাকলেও তবে এই সময়টাতে রোগীর চাপ বাড়ে। তবে বর্তমানে সেই অর্থে চাপ বাড়েনি বলছেন চিকিৎসকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৮ সালে চমেক হাসপাতালে মাত্র ৬টি শয্যা নিয়ে হৃদরোগ বিভাগটি চালু হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সেটি ১৬০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে যেহেতু চট্টগ্রাম অঞ্চলে হৃদরোগীর প্রকোপ বেশি তাই এই সংখ্যাটি যে একেবারে অপ্রতুল তা প্রমাণিত হতে সময় লাগেনি। বর্তমানে প্রায় সময় শয্যার চেয়ে অনেক সময় দেড়গুণ রোগীও ভর্তি থাকে।

অন্যদিকে চমেক হাসপাতালের প্রায় সব বিভাগে অধ্যাপক পদ থাকলেও হৃদরোগ বিভাগে নেই কোনো অধ্যাপক পদ। এটি দুঃখজনক। অথচ এই হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের ওপর চট্টগ্রামের আশপাশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার অন্তত ৪ কোটি মানুষ নির্ভরশীল। এই চট্টগ্রামে হৃদরোগের আর কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালও নেই। এছাড়া গরীব রোগীদের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। অন্যদিকে বিভাগের হৃদরোগের ওপর ডিপ্লোমা, এমডি ও এফসিপিএস কোর্স চালু রয়েছে। তাই এই বিভাগে অধ্যাপক পদ সৃজন করা খুবই জরুরি। বর্তমানে বিভাগে ৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, ১২ জন সহকারী অধ্যাপক, একজন রেজিস্ট্রার ও ৪ জন সহকারী রেজিস্ট্রার কর্মরত রয়েছেন। তবে হৃদরোগে নেই কোনো অধ্যপকের পদ। তবে হাসপাতালে অনুমোদিত পদ আছে একজন সহযোগী অধ্যাপক ও দুইজন সহকারী অধ্যাপকের। বাকিরা সবাই সংযুুক্তিতে কাজ করছেন বলে জানা যায়।

পটিয়া থেকে আসা রোগী আনোয়ার হোসেনের ছেলে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা গত দুইদিন আগে বুকে ব্যথা নিয়ে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হয়। তবে এখন পর্যন্ত বেড পায়নি। মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রথমদিন ওয়ার্ডের বাইরের মেঝেতে ভর্তি ছিল। আজকে (গতকাল) ওয়ার্ডের ভিতরে জায়গা পেয়েছি।

জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইকবাল মাহমুদ বলেন, হৃদরোগ বিভাগে সব সময় রোগীর চাপ থাকে। তবে এতে সেবা দিতে কোনো ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে না। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা সবাইকে হৃদরোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানাই। বিশেষ করে খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ বাড়ানো, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা, শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো এবং ধূমপান থেকে বিরত থেকে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়।

চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুর উদ্দিন তারেক বলেন, হৃদরোগ ওয়ার্ডে জায়গার সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ আমাদের সিসিইউ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ফলে সিসিইউ রোগীগুলো ব্লকে আলাদা করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এই মূহুর্তে যে পরিমাণ রোগী আছে, এটি আমরা চাপ মনে করছি না। তবে আমাদের বিভাগে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার থাকলেও নেই কোনো ইনডোর মেডিকেল অফিসার (আইএমও)। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৬–৭ জন আইএমও দরকার। আইএমও না থাকায় আমরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ট্রেইনিদের দিয়ে শিফট করে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৮ অপরাহ্ণ
  • ১৫:৪৯ অপরাহ্ণ
  • ১৭:২৯ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৪৮ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
©2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102